Forum



Author Topic: সময়ের চাহিদা ও মাহফিলে সীরত (Read 842 Times)

Anwar

  • Chunati (Bagan Para)
  • 01833052324
  • anu.cnt@gmail.com
সময়ের চাহিদা ও মাহফিলে সীরত
« on: 28 Sep 2015 »

“সময়ের চাহিদা ও মাহফিলে সীরত”
- কাশশাফ শেহজাদ


দুঃখজনক হলেও সত্য, সম্প্রতি হজ্ব উদযাপনে হেরেম শরিফে ক্রেন দুর্ঘটনায় শতাধিক হাজী নিহত এবং মিনায় পদদলিত হয়ে সাত শতেরও অধিক হাজী নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা এক হাজারেরও অধিক। আমি তাদের আত্মার প্রশান্তি কামনা করছি।

আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসতাম, যারা হজ্বে যান তারা এই ধরনের একটি মানসিক অবস্থা নিয়ে যান যে, তারা আর ফিরে আসবেন না। অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিবছর কোন কোন মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই অসুস্থতা জনিত কারণে কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে হজ্বে থাকা অবস্থায় মারা যান। এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করাকে আমরা সৌভাগ্য মনে করি। কষ্টদায়ক হলেও আল্লাহর ঘরে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা সৌভাগ্যজনক ব্যাপার।

কিন্তু সাম্প্রতিক মৃত্যুটা স্বাভাবিক ছিলনা এবং এই দুর্ঘটনা এক ধরণের হত্যাকান্ড। হত্যাকান্ড বলছি একারণে যে, এ ধরনের একটি বড় ধরনের ব্যবস্থা করতে গেলে অনেককিছু ব্যবস্থা নিতে হয়। যারা আয়োজন করে তাদেরকে অনেক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। আমি সৌদি সরকারের সমালোচনা করতে আসি নি। কিন্তু এতগুলো হাজী নিঃসন্দেহে তাদের মেহমান।

তাদের তুলনায় আমরা ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান করি , উনিশ দিন ব্যাপী মাহফিলে সীরত। আমাদের কাছে যারা আসে তাদেরকে আমরা সবসময় মেহমান মনে করি। আমরা কিন্তু ভয়ে থাকি; শৃংখলা ঠিক রাখতে গিয়ে আমাদেরকে অনেক সময় তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এর পর মানসিকভাবে একটা পীড়া থাকে যে, তারা কিন্তু আমাদের কাছে আসছে বেশি কিছু পাওয়ার জন্য না। দেখা গেল কেউ এক হাজার টাকা চাঁদা দিচ্ছে, কিন্তু তাবাররুকের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। একহাজার টাকা দিয়ে তাবাররুকের চেয়ে অনেক মূল্যবান জিনিস কিনতে পাওয়া যায়।

........ নিঃসন্দেহে তারা আমাদের কাছে মেহমান। মেহমানদের যাতে অসুবিধা না হয় আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকা উচিত। আমি সৌদি সরকারেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করব, ভবিষ্যতে আমাদের অনেক হাজী যাবে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। অন্তত দুর্ঘটনায় যেন কারো মৃত্যু না হয়। স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে, সেটা অন্য বিষয়।

একসময় মানুষ হজ্বে যেত হেটে হেটে, তখন গাড়ি ছিল না, প্লেন ছিল না। পরবর্তিতে মানুষ হজ্বে যেত জাহাজে করে, অনেক দিন সময় লাগত। বর্তমানে মানুষ প্লেনে করে খুব কম সময়ে হজ্ব করতে যায়। এখন কেউ যদি বলে, যখন হজ্ব শুরু হয়েছিল তখন হেটে গিয়েছিল, আমিও হেটে যাব, আমি প্লেনে চড়ব না (তাহলে কেমন হয়?)! একসময় মানুষ মোবাইল ব্যবহার করত ফ্যাশনের জন্য, কিন্তু এখন মোবাইল ছাড়া একমুহুর্তও থাকা সম্ভব না। আগে সোনালী কিংবা অগ্রণী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হলে টোকেন নিয়ে লাইন ধরে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হত। সেখানে বড় বড় বালাম বই থাকত, দীর্ঘ সময় নিয়ে বালাম বই খুলে ডাটা এন্ট্রি করে চেক ক্লিয়ার করতে হত। এখন কোন ব্যাংকে বালাম বই নেই, কোন টোকেন সিস্টেম নেই। সবকিছু কম্পউটারাইজড হয়ে গেছে। কম্পিউটারাইজড হলে সুবিধা হল- কম সময়ে কম মানুষ দিয়ে বেশি কাজ করা যায় , হিসাব-নিকাশ নির্ভুল হয়, আগের রেকর্ড পাওয়া যায় এবং সহজে তুলনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

আধুনিক যুগে তথ্য প্রযুক্তির যে অবদান সেটি অস্বীকার করার কোন উপায় আমাদের নাই। সীরাত মাহফিলের প্রত্যেক কিছুতে আমরা তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারি। গত বছর আমরা বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম। এর সুফল আমরা পেয়েছি। আমরা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সীরত মাহফিলের মোনাজাত সারা পৃথিবীতে দেখাতে পারি। যে চুনতিতে নাই , সে তার জায়গায় বসে মোনাজাত করতে পারে। আমরা স্টোরের যাবতীয় বিষয় কম্পউটারাইজড করে মনিটরিং করতে পারি। যাবতীয় হিসাব পত্র কম্পউটারাইজড করলে বিষয়টা আরো দ্রুত ও সহজ হয়। আমি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। আজকে না হোক, যদি এখন থেকে শুরু করি, হয়ত দুই তিন বছরে মধ্যে আমরা সম্পন্ন করতে পারব (ইনশা আল্লাহ)।

আমি কাউকে ধন্যবাদ দিচ্ছি না। কারণ, আমরা যারা সীরাত মাহফিলে কাজ করি, তারা ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য করি না। সেটাকে দায়িত্ব মনে করে করি। এটি আমাদের দায়িত্ব, আমাদের পালন করতেই হবে।ধন্যবাদ দিলেও করতে হবে, না দিলেও করতে হবে। কেউ বললে করব, না বললে করব না, সেটা কিন্তু না। কেউ ডাকলে যাব, না ডাকলে যাব না, সেটাও কিন্তু না। সীরাত মাহফিলের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অন্যরকম, এখানে কারো স্বার্থ নেই, কোন রাজনীতি নেই। এটি সকলের সম্পদ, আমাদের রক্ষা করতে হবে।

গত বছর সীরাত মাহফিল একটি বিশেষ গুরুত্বের ছিল। কারণ, তার আগের বছর অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছিল। একারণে গত বছর মাহফিলে বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলাম, বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। আমি মনে করি গতবার সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, একারণে ভবিষ্যতে আর কোন দূর্ঘটনা হবে না, সেটা মনে করা ঠিক হবে না। গতবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। প্রয়োজনে এটি আরও বাড়াতে হবে। মেহমানগণ যেন সুশৃঙ্খল ভাবে আপ্যায়িত হতে পারে, আমাদের যেন কোন ধরণের সমালোচনা না হয়, এ ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব সচেতন হতে হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।

(সংক্ষেপিত, পরিমার্জিত)
****** ***** ***** ***** ***** ***** ***** *****
নোটঃ এটি আমার মৌলিক লেখা নয়। এটি চুনতিতে অনুষ্ঠিত ৪৫তম সীরত মাহফিলের প্রস্তুতি সভায় উপস্থাপিত জনাব কাশশাফ শেহজাদের বক্তব্যের অংশবিশেষ। বিষয়বস্তুর গুরুত্ব উপলব্ধি করে সভায় অনুপস্থিত সীরত শুভাকাঙ্ক্ষিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যটি লিখিত আকারে প্রকাশ করছি।

Mohd Shah Alam

  • Chunati Kalu Sikder Bari, P/O :- Chunati Deputy Bazar P/s: Lohagara Dist:-Chittagong
  • +966 502351959
  • alam_shahmohd@yahoo.com
Re: সময়ের চাহিদা ও মাহফিলে সীরত
« on: 28 Sep 2015 »

অত্যন্ত সুন্দর একটি লেখা, সব কিছুকে কম্পিউটারাইজড করলে আরো বেশি স্বচ্ছ হবে. সেই সাথে সকল মেহমানের মোবাইল নাম্বার নিয়ে একটি ডাটাবেইজ তৈরী করলে, হয়ত সিরাত মাহফিলের জন্য ভাল হবে.