এরোব্যাটিক শো বা এয়ার শো নামে পরিচিত এই আকর্ষণীয় প্রদর্শনী বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। পৃথিবীর অন্যান্য বিমান বাহিনীর মতো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও এই জনপ্রিয় এয়ার শো প্রদর্শনে পারদর্শিতা অর্জন করেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে ও বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই এয়ার শো এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বপ্রথম ১৯০৯ সালে ফ্রান্সের রিমসে এয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত ৭ দিন ব্যাপী একটি এক্সিবিশন ছিলো। এরপর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এরকম এরো শো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পর্যায়ক্রমে এয়ার শো এর সৌন্দর্য বিশ্বের বিমানবাহিনীগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যের মূর্তপ্রতিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে।
এরপর পৃথিবীর রাষ্ট্রসমূহ স্বাধীনতা লাভ করার এই মাহেন্দ্রক্ষণকে বছরের পর বছর স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের উদ্ভব পেতে থাকলে এয়ার শো এর জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাষ্ট্রসমূহের জাতীয় জীবনে বিশেষ এই দিনে সামরিক বাহিনীর প্যারেডের পাশাপাশি আয়োজন হয় এরো শো। বিশেষ করে বলতে গেলে নাইট এরো শো এর বেশ কিছু প্রদর্শনী আমরা গত এক দশক পূর্বেও দেখতে পায়। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে কেমন যেন এরো শো এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে গেছে মনে হচ্ছে। এর পেছনে কারণ কি বলতে গেলে আমাকে বলতে হবে এই সময়ের তুমুল জনপ্রিয়তায় থাকা ড্রোন শো এর কথা।
পৃথিবীতে প্রথম ড্রোন শো প্রদর্শিত হয় মাত্র এক যুগ পূর্বে ২০১২ সালে। অস্ট্রেলিয়ার লিনজ এ প্রথম এ ড্রোন ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের দিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো শহরে এই ড্রোন শো বা ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এটিই ছিলো তাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। কিংবা ২০২৩ সালের কাতারে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ইতিহাসের সেরা ড্রোন শো এর কথা কি আমরা ভুলতে পেরেছি? কিংবা এই বিশেষ জমকালো দিনের ড্রোনের সাহায্যে অঙ্কিত বিশিষ্টজনদের মন্ত্রমুগ্ধ করা প্রতিকৃতির কথা কার জানা নেই? তাছাড়া বর্তমান সময়ের কথা বলতে গেলে গত ১৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ এর প্রথম দিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ড্রোন শো এর কথা কি বলব না? এই দিন একসাথে ২৬০০ ড্রোনের মাধ্যমে ১২টি মোটিফ প্রদর্শন করা হয় পয়লা বৈশাখ সন্ধ্যায়। অথচ এই বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে গত এক যুগ আগেও স্থান দখল করে রেখেছিল এরো শো। এখন এয়ারস্পেসে এরো শো হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে ড্রোন শো।
বলাবাহুল্য, ড্রোনের চাহিদা পৃথিবীর সামরিক বাহিনীগুলোতেও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ ড্রোনের সাহায্যে এয়ারে এমন এমন কাজ সম্পাদন করা সম্ভব যা এয়ারক্রাফটের চেয়েও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী। সামরিক বাহিনীতে ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে মূলত ২০২০ সালে ইরানের অন্যতম সামরিক ব্যক্তিত্ব কাসেম সোলাইমানির উপর ড্রোন হামলার পর থেকে। এটা আমার পর্যবেক্ষণ।
তবে পাশাপাশি অন্যান্য কারণও রয়েছে। যেমন ইরাকসহ অন্যান্য স্থানেও ড্রোন হামলার ঘটনা। মূলত সহজলভ্য এই ড্রোনের সুবিধার কারণেই ড্রোনের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব যুদ্ধ সংগঠিত হলে সেখানে ড্রোন যে অন্যতম ভূমিকা পালন করবে না এ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।যাহোক ড্রোনের প্রযুক্তিগত বিদ্যা আমরা অর্জন করতে না পারলে আরো একধাপ পিছিয়ে পড়ব।
//16.04.25//
Make sure you enter the(*)required information