(একজন নাগরিকের দায়বদ্ধতা থেকে কিছু কথা)
মাঝে মাঝে আমার ধারণাগুলো আল্লাহ কিভাবে কিভাবে যেন সত্যি করে দেন! তখন আমি অবাক হয়ে যাই। এই যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর ড. নিয়াজ আহমেদ খান। অনেকেই আজকে জানতে পারছেন বা অনেকের কাছে অকল্পনীয় যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হলেন! কিন্তু আজ থেকে ৮ বছর আগে থেকে যখন স্যারের সাথে আমার পরিচয় তখন থেকেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম তিনি একদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবেন। আমার সেন্টিমেন্টাল ধারণা থেকে সেটা আরো আগেই হওয়ার কথা! কারণ একটা মানুষের সম্বন্ধে যখন আপনি এতটুকু জানবেন তখন তাকে নিয়ে আপনি ধারণা করতে পারবেন। আমি সেটা পেরেছিলাম। উনার ঘনিষ্ঠরা হয়তো আমার মতো জানতেন।
যাইহোক স্যারের সাথে আমার প্রথম কথা হয় সম্ভবত ২০১৬ সালে। এরপর একাধিকবার স্যারের সাথে আমার কথোপকথন হয়েছে। তবে সেটা কখনো সামনাসামনি হয়নি। একজন মানুষ এতোটাই বিনয়ী যে তিনি আমাকে কখনো তুমি করে সম্বোধন করেননি। আমি গত দুইদিন আগে লিখেছি স্যারের ছাত্র হতে না পারাটা আমার দুর্ভাগ্য। কিন্তু আমার একটা সৌভাগ্য হয়েছে সেটা হলো আমি একজন ভালো মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম৷ যে মানুষের সংস্পর্শে গিয়ে আমি ধারণা পেয়েছি একজন মানুষকে কতটা বিনয়ী হতে হয় সেটা। মানুষকে বিনয়ী কিভাবে হতে হয় সেই কিঞ্চিৎ ধারণা পেয়েছিলাম প্রফেসর নিয়াজ আহমেদ স্যারের কাছ থেকে। সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারার এই মানুষটি যতটা না জ্ঞানী তার চেষে বেশী হচ্ছেন বিনয়ী। তাঁর মাঝে একটা চুম্বকীয় শক্তি আছে। সেই চুম্বকটা হলো তাঁর মুখের ভাষা এবং তাঁর মাঝে থাকা জ্ঞান, মানুষকে বুঝানোর ক্ষমতা। একবার কেউ তাঁর সাথে কথা বললে তিনি তাঁর এসব বিশেষ গুণাবলি সমৃদ্ধ বৈশিষ্ট্য দ্বারা মানুষকে আকর্ষণ করেন। যারা বলেন তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। আমি বলব তিনি শুধু শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক নন, তিনি একজন সামাজিক বান্ধব মানুষ। যিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি এই সমাজ, পরিবেশ, জীব, উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার জগতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে এসবের কাছে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই অসাধারণ সব কার্যক্রম তিনি করে গেছেন। তিনি এসব বৈশিষ্ট্য কার কাছ থেকে পেলেন? সোজা কথাই তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে পেয়েছেন। তাঁর পিতাও একজন বন কর্মকর্তা ছিলেন। এখান থেকেই তিনি পরিবেশের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন।
গতকাল একজনকে দেখলাম লিখেছেন, ড. নিয়াজ আহমেদ খান নাকি একজন ঘোর এনজিও কর্মী! তাকে বিনয়ের সাথে বলতে চাই তিনি সাধারণ এনজিও কর্মী নন। তিনি ইউএনডিপি এর মতো সংঘটনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন। তিনি আরো বেশ কিছু সামাজিক সংগঠন ও এনজিও এর উপদেষ্টা পর্যায়ে কাজ করেছেন। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসি মূলত একজন দক্ষ প্রশাসক। তিনি একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে ব্যবস্থাপনা, প্রশাসক হওয়ার জন্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান যোগ্য। যাইহোক, স্যার যেহেতু সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে বরাবরই যুক্ত রেখেছিলেন মূলত সেই জায়গা থেকেই স্যারের সাথে আমার পরিচয়। সেসব বিষয় নিয়েই স্যারের সাথে আমার কথোপকথন হতো। এর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয়ও স্যারের সাথে আমার হয়েছে।
সর্বশেষ, স্যারের সাথে কথা হলো ২০২১ সালের জুন মাসে। একজন মানুষের এতো এতো গুণ থাকা সত্বেও যখন তাকে নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলে তখন আমাদেরকেও কিছু বলতে হয়। যারা স্যারের ভিসি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদের রিপ্লেস এমন একজন ব্যক্তিকে দেখান যিনি কিনা নিয়াজ আহমেদ খানের চেয়ে উত্তম এবং যোগ্য? আর কোন কথা নাই আপনাদের সাথে।
//২৯ আগস্ট ২০২৪//
Make sure you enter the(*)required information