সবুজে ঘেরা গ্রামের মুখটি পড়ে মনে বেশ, হৃদয় ছুঁয়ে মন মাতানো পাখির গানের রেশ। হরেক রকম বন্য প্রাণী দেখা মেলে পথে, সন্ধ্যা হলে জোনাকিরা আনন্দে ওঠে মেতে।
রাখাল ছেলে ছুটে চলে গরুর পালের পিছু, লাল মাটির মেঠো পথটি ছিলো উঁচু-নিচু। ছবির মতো সেই গ্রামের নাম প্রিয় চুনতি, নির্মল বাতাসে পবিত্র গ্রামটা কতই না মায়াবতী।
সুফি-দরবেশ, সাধক-আউলিয়ার পুণ্যভূমি এ গ্রাম, শায়িত আছেন বহু গুণী, অমর যাঁদের নাম। শিশু হোক বা বৃদ্ধ মানুষ জন্ম যার এ গ্রামে, ঘর ছাড়িলেও পর হয় না ছো্ট্ট এই জনমে
যদি করতে হয় স্মৃতিচারণ এই জনপদ ঘিরে, ইতিহাসের পাতা খুলে তাকাতে হবে ফিরে। যুগে যুগে জন্ম নিয়েছে জ্ঞানী-গুণীজন, যাঁদের আলোয় আলোকিত হয়েছে এই ভূবন।
তাঁদের মাঝে এক আউলিয়া শাহ সাহেব কেবলা (রহ.), দেখে তাঁহারে সমীহ করত জনপদের সব মহল। ইসলামের প্রচার-প্রসারে করিলেন মহৎ আয়োজন, মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সঃ) ছিল তাঁরই প্রবর্তন। বছরে বছরে ইসলামের বাণী শোনান আলেমগণ, মুফতি-মাওলানাদের কণ্ঠে জাগে ঈমানের স্পন্দন।
এই জনপদে জন্ম নিল তিন কীর্তিমান গুণীজন— শুকুর আলী মুন্সেফ, মাওলানা আব্দুল হাকিম, খান বাহাদুর নাসিরুদ্দিন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ছড়ায় তাঁদের সুখ্যাতি দূর-দূরান্তে, স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে নাম ইতিহাসের পৃষ্ঠাতে। শিক্ষার মূল ভিত গড়ে জ্বালিয়েছেন জ্ঞানের আলো, তাঁদের কর্মে আলোকিত আজও এ জনপদ ভালো।
যুগের সেরা উস্তাদ-শিক্ষক জন্মেছেন এই ভূমি জুড়ে, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইসলাম খান আছেন স্মৃতির মুকুরে। দানবীর বহু মানুষ ছিলেন মানবসেবায় নিবেদিত, সামরিক সচিব জয়নাল আবেদীন ছিলেন গুণে সমুজ্জ্বল খ্যাত। তাঁদের অবদান অস্বীকার করে না কালের পরিক্রমা, খোদার রহমতে ভাস্বর তাঁদের কর্মের মহিমা।
টিলায় ঘেরা চিরসবুজ সেই গ্রামে মন যায় উড়ে, অবিরত মিঠা পানি ঝরে সাধারণ কলের ধারে। অদ্ভুত খোদার রহমত যেন বিরাজে গাঁয়ের পরে, শেরখানি ঐতিহ্যের গান আজও সুর তোলে অন্তরে।
যুবকের শৈশব স্মৃতি মিশে আছে আঞ্জুমান মাঠে, মুন্সেফ বাজার মিলনায়তন প্রাণ জাগায় দিনরাতে। কত আবেগ, কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে বুকের সুখে, এ গাঁয়ের মানুষ হাসি বিলায় আপনজনের মুখে।
চুনতি তুমি হৃদয়জুড়ে চিরসবুজ এক নাম, মাটি, মানুষ, স্মৃতি মিলে তুমি আমার প্রাণের গ্রাম। যত দূরেই যাক না মানুষ জীবনের প্রয়োজনে, ফিরে আসে মন বারেবারে তোমারই আহ্বানে।
Make sure you enter the(*)required information