জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাভাষীদের হৃদয়ে ও মননে গাঁথা একটি নাম ও একটি ব্যতিক্রমী সাহিত্য স্বত্ত্বা। একজন কবি শুধু দুই চারটা কবিতার জন্য বিখ্যাত হয়ে খনিকের জন্য মানুষের হৃদয়ে প্রভাবান্বিত করতে পারে। কিন্তু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই জায়গাতে ব্যতিক্রম। তিনি এমন এক প্রতিভাধর গুণের অধিকারী যিনি শতাব্দীর পর শতাব্দী তার ভাষাভাষী মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিশেষ দর্শনচিন্তা রয়েছে। দর্শনের নগন্য ছাত্র হয়ে কাজী নজরুল ইসলামের দর্শনচিন্তাকে অধ্যয়ন করার সুযোগ হয়েছিল স্নাতকে অধ্যয়নকালিন। নজরুলের প্রত্যেকটা সৃষ্টিকর্ম অতি আধুনিক। তার সুর, লেখা কোনটাকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো দ্বিতীয় কোন সত্ত্বা এ অঞ্চলে আজ-অব্দি পয়দা হয়নি। এটাই বাস্তবতা। এবং এ ব্যাপারে আমি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে কাজী নজরুল ইসলামের রচয়িতা বিখ্যাত গান- "রুম্ ঝুম্ ঝুম্ ঝুম্ রুম্ ঝুম্ ঝুম্, খেজুর পাতার নূপুর বাজায়ে কে যায়" তারই স্বাক্ষ্য বহন করে। এই গানটি এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। গানটি রচনা করার মধ্যদিয়ে কবি তুর্কি-আরব-বাংলা ভাষার লোকসংগীতের সুরের সংমিশ্রণে একটি আধুনিক সুরের রূপদান করেন। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে ২০২৬ সালে এসেও এমন কোন আধুনিক বাংলাভাষী তরুণ শিল্পী নাই যাদের ঠোঁটে এই গানটি স্থান পায়নি।
কবির এই বৈশিষ্ট্য বাঙালী জাতীস্বত্ত্বার বন্ধনকে পোক্ত করেছেন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। এই গান সমানে হিন্দু, মুসলিম সকল বাংলাভাষীর কাছেই প্রিয় হয়েছে। আরব-তুর্কি লোকসংগীতের আদলে গানটি সুর করা হলেও গানটি প্রথম অবিভক্ত ভারতের শিল্পী দীপ্তি বসুর গলায় গাওয়া হয় সেই বিংশ শতাব্দীর পঞ্চম দশকে ১৯৪১ সালে। এই শিল্পী একজন ভারতীয় বাংলাভাষী হিন্দু শিল্পী। তারপরও অসাম্প্রদায়িক বাঙালি কবি নজরুলের গানটি তার কাছে পছন্দের ছিলো।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি এখনো কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়েও রাজনীতি হয়। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের মাটিতেই কবির ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশেই তাকে সমাধিত করা হয়। কবির সম্মান ঐ পর্যন্ত কোন অংশে কমেনি এই বাংলাদেশে। এরপরও আজকাল নজরুল বিদ্বেষ তৈরি করতে আমাদের প্রাণের ও গর্বের এই কবিকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি হয়। এটা খুবই দুঃখজনকও লজ্জাজনক বটে আমাদের জন্য। প্রকৃতপক্ষে নজরুলকে অসম্মানিত করা হলে আমাদের সংস্কৃতিকে চর্চা করার মতো আমাদের আর কোন সত্ত্বা থাকবে না। এটাই বাস্তবতা। এটা বুঝার জন্য আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
সবচেয়ে আশা জাগানিয়া বিষয় হলো এতো বিরোধিতার পরেও এখনো নজরুল আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন আমাদের জাতীয় প্রতীক হয়ে।
//২৪.০৭.২০২৬//
//ঢাকা//
Make sure you enter the(*)required information