কতো দ্রুত বেশ ভালোই চলে গেলো বছর একটা ,অথচ প্রতিদিন চলতো না যেন আমার তোমাকে ছাড়া। ক্লাসে যাওয়ার সময় সকালের নাস্তা সেরে যখন কিনা,বের হবো করে খুব তাড়াহুড়া। তোমাকে পরিষ্কার করে দিতেন ব্রাশ কিংবা টিস্যু দিয়ে আমার মমতাময়ী মা। তুমি কতো প্রিয় ছিলে আমার কাছে জানতে না তখনো হয়তোবা। বলতে পারো জুতো তো আরও ছিলো তবে কেন আমার জন্য মন কাঁদে এতোটা?কিন্তু পরে যে তেমন একটা আরামদায়ক মনে হতো না অন্য কোনটা! তুমি যেখানেই থেকো বলছি শোন, তোমার অভাব পূরণ করতে অনেক ঘুরে ঘুরে অতঃপর কিনেছি নতুন আর এক জোড়া জুতা । কিন্তু তোমার মতো আরামদায়ক নয় সেটা যদিও দামে ও তোমার চেয়ে বেশ কিছুটা। আচ্ছা! সেদিন কার পায়ে ভর করে, তুমি দূরে চলে গিয়েছিল আমার কাছ থেকে?পারলে না কেন আর একটু সময় অপেক্ষা করতে! সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বিজয়ী হয়ে অবশেষে বিজয় মিছিল শেষে তোমার সাথেই তো কথা ছিল ঘরে ফেরা। এদিকে মা যে আমার মোবাইল ফোনে বার বার দিচ্ছে তাগাদা,খোকা আছ কোথা? গড়িয়ে গেলো যে বেলা এতো দেরি হচ্ছে কেন তোমাদের বাড়ি ফেরা !মা কি আর জানে বিজয় মিছিলে তখনো সমানতালে গুলি বর্ষণ চলছে।তাই অমনি দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে দেখি যে যেখানেই পারেন চেষ্টা করে যাচ্ছেন থাকতে নিরাপদ আশ্রয়ে।কেউ রাস্তার মোড়ের দোকানের পিছনে, কেউবা আবার অলিগলি বাসার পেছনে কেউবা আবার মসজিদে। বাসা থেকে বের হবো তখন মা ই তো বলছিলেন সহজ উপায় জুতা পায়ে দৌড়াতে!অমনি তোমাকে সাথে করে হুট করেই পায়ে দিয়ে মিশে গেলাম উল্লসিত জনতার মিছিলে মহা খুশীতে।বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতার সাথে লড়ে চুড়ান্ত বিজয় আসল অবশেষে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ও শান্ত হলে যে-ই নিরাপদ আশ্রয় থেকে বের হবো তুমি নেই কোন দিকে!বিস্মিত হয়েছি অবাক চোখে, আমার প্রিয় জুতো জোড়া নেই দেখে।এই বিপদে বেশ সচেতন ছিলেন চোর ও তবে ।ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা হোক তবে মা যে আমার চেয়ে আছে পথপানে,তাঁর সন্তানরা ফিরবে বিজয়ী পতাকা হাতে।এই শান্তনা দিয়ে মনকে , কিছু পেতে হলে কিছু তো হারাতে হয় প্রিয় কিছুর বিনিময়ে ।বিঃদ্রঃ ৫ ই আগষ্ট ছোট বাবানের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় জুতো জোড়া নিয়ে এই লেখা। আজকের এই দিনে স্মৃতিতে শুধুই সেই বিভীষিকাময় দিনের কথায় যেন বার বার ভেসে উঠছে স্মৃতির মানসপটে। আহা! ভাবতেই গা শিউরে ওঠে ॥ নির্ঘুম রাত গেলো কেটে, কি হতে চলেছে পরের দিন সকালে এই ভেবে ভেবে। এমন কেউ কি ছিলেন বাকি যে দুহাত তুলেননি অসীম দয়াময় মহান আল্লাহর কাছে বিভীষিকাময় সেই সময় থেকে পরিত্রাণ পেতে।যিনি সদা আসীন আছেন আরশে, সকল আঁধার কাটিয়ে বিজয় এলো অবশেষে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে বিজয়ী বেশে।
Make sure you enter the(*)required information